বাড়ছে অপরাধের ঝুঁকি
- গাংনীতে ২০৮ ঘরের বেশিরভাগই ফাঁকা

গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পড়ে আছে ফাঁকা। কোথাও লতাগুল্মে ঢেকে গেছে, কোথাও নির্মাণের মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আবার জনবসতি থেকে দূরে থাকা কয়েকটি ঘরে মাদক কেনাবেচা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর ২০৮টি ঘরের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
২০২১ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত গৃহহীনদের বাদ দিয়ে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে বসতি গড়ে ওঠেনি অনেক ঘরেই। দীর্ঘদিন খালি থাকায় এখন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে এসব ঘর।
ধানখোলা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে ছেউটিয়া নদীর তীরে নির্মিত আটটি ঘরের কোনোটিতেই নেই বসতি। স্থানীয় কৃষক এনামুল হক বললেন, ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের কারণে কয়েকটি ঘরের গাঁথুনি বেঁকে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা এসব ঘরে পাটসহ বিভিন্ন জিনিস রাখছেন।
প্রতিটি ঘরের জন্য ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি উপসহকারী প্রকৌশলী আলিমুল রেজা।
রাইপুর ইউনিয়নের গোপালনগর পাঠাপাড়ায় জনবসতি থেকে দূরে নির্মিত দুটি ঘরও পড়ে আছে অব্যবহৃত।
আর সাহারবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক ও কাজলা নদীর তীরবর্তী চারটি ঘরে মাদক কেনাবেচা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদক কারবারিদের ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না অনেকে।
গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নাবিদ হাসান বললেন, নথিপত্র পর্যালোচনা করে সরেজমিনে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বললেন, তদন্ত কমিটি করে খালি ঘরগুলো যাচাইয়ের পর প্রকৃত অধিকারীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। মাদক ও অপরাধের অভিযোগ পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।



