নড়াইলে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

সংগৃহীত ছবি
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসীকে (৩৬) হত্যার অভিযোগে তার স্বামী লিমন মল্লিককে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয় তাকে।
লিমনের বাড়ি উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে। নিহত সুমনার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
নড়াইলের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানালেন, স্ত্রী সুমনাকে হত্যার পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে দরজা বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান লিমন। ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন তিনি। লিমনের কান্নায় পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অজিত কুমার বলেছেন, ‘লিমন পুলিশকে জানিয়েছেন, টিকটকে ভিডিও পোস্ট করতেন সুমনা। পাশাপাশি বিভিন্ন পুরুষদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এ নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এর জেরে সুমনাকে সোমবার সকালে শ্বাসরোধে হত্যা করেন লিমন। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে যান তিনি।
পুলিশ পরিদর্শকের ভাষ্য, শুরুতে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে চেয়েছিলেন লিমন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লিমনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকার একটি গার্মেন্টে কাজ করার সুবাদে সুমনার সঙ্গে পরিচয় হয় লিমনের। ২০২১ সালে ঢাকায় তাদের বিয়ে হয়। এটা লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে। পরে সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চরদিঘলিয়ায় আসেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। বর্তমানে লিমন স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন।





