শরণখোলা
সুন্দরবনে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ

ছবি: আগামীর সময়
কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় তিন সদস্য। বুধবার (৮ জুলাই) বিকাল ৫টার সময় পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় আত্মসমর্পণ করেন তারা।
আত্মসমর্পণকালে দুটি দেশি একনলা বন্দুক, একটি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি হস্তান্তর করেছেন দস্যুরা। এ সময় জিম্মি এক জেলেকেও উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
আজ বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)।
এর আগে গত ২১ মে সুন্দরবনের আরেক কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনীর প্রধানসহ মোট ৭ সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন কোস্ট গার্ডের কাছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানালেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে কোস্ট গার্ডের দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযানের ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে দস্যু বাহিনীগুলো। এখনো যারা সক্রিয় রয়েছে তাদের অপতৎপরতাও অনেকটা সীমিত হয়ে গেছে। যে কারণে নিজেদের জীবন রক্ষায় বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মসমর্পণ করেন বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর এই তিন সদস্য। তারা যাতে পরে আবার দস্যুতায় ফিরে না যায়, সে জন্য তাদের ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখা এবং করা হবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন আরও জানালেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪২ জন দস্যুকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ ছাড়া ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি, ৩১৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযান দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জন বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারের কাছে।
তিনি জানালেন, উপকূলের নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।




