সিঁদুরের রঙে রাঙা বিদায়, মুক্তাগাছার পূজা মণ্ডপে নারীদের আনন্দ-উৎসব

ছবি: আগামীর সময়
সিঁদুরের লাল রঙে রাঙা মুখ, উলুধ্বনি আর শঙ্খের ধ্বনি। একদিকে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বিষাদ, অন্যদিকে সিঁদুরখেলার আনন্দ। বিজয়া দশমীতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এমনই আবেগঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শতাধিক নারী একে অপরের কপালে, গালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে মেতে ওঠেন আনন্দে। পাশাপাশি তরুণদেরও সিঁদুরখেলায় অংশ নিতে দেখা যায়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল ৪ টার দিকে মুক্তাগাছা শহরের ৫৬ প্রহর রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় সিঁদুরখেলা। উপজেলার ১১৫ টি পূজামণ্ডপেই চলে এ আয়োজন। পূজা শেষে নারীরা দেবী দুর্গার সিঁথি ও পায়ে সিঁদুর দিয়ে তাকে বিদায় জানান। পরে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সিঁদুরখেলায় অংশ নেওয়া নমিতা রানি দাস আগামীর সময়কে বলেন, মা আজ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, খুবই খারাপ লাগছে। তবে এই বিষাদের মধ্যেও সিঁদুর খেলা আমাদের সবচেয়ে আনন্দের একটি আয়োজন। সবাই মিলে আনন্দ করি, একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাই। আগামী বছর মা আবার আসবেন, এই অপেক্ষাতেই কষ্টকে বুকে নিয়েই মাকে বিদায় জানাই।
মণ্ডপে উপস্থিত অন্য নারীরা জানান, দুর্গাপূজার পাঁচটি দিন আনন্দ-উৎসবে কাটে। বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে দেবী দর্শন করা, পূজা দেওয়া, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটানো, সব মিলিয়ে অন্য রকম অনুভূতি তৈরি হয়। দেবী দুর্গা বিভিন্ন মণ্ডপে বিভিন্ন রূপে সজ্জিত হন। একেক মণ্ডপের প্রতিমা ও আয়োজন একেক রকম, তাই ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখার আনন্দও আলাদা।
তারা আরও বলেন, সিঁদুরখেলা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই আয়োজনে বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি একে অপরের প্রতি শুভকামনা জানান। বিজয়ার দিনে বড়দের প্রণাম করা, সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া এবং মিষ্টি বিনিময়ের মধ্য দিয়েও সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটে।
মুক্তাগাছা ৫৬ প্রহর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত সমীর চক্রবর্তী বলেন,ঘোড়ায় চড়ে মা মর্তে এসেছিলেন, নৌকায় চড়ে আজ কৌইলাশে ফিরে যাচ্ছেন, বিদায় জানানো আগে সিঁদুরখেলা আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আনন্দের একটি অংশ। এর মধ্য দিয়ে আমরা দেবীর কাছে সবার সুখ, শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করি। মা দুর্গার আশীর্বাদে সবার জীবন সুন্দর হোক, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকুক, এটাই আমাদের প্রার্থনা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর দেবী বরণ ও সিঁদুরখেলার মাধ্যমে তাকে বিদায় জানান নারীরা। অনেক নারী লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে এ আয়োজনে অংশ নেন। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।
পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে দেবী দুর্গার বিদায়ে ভক্তদের মনে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। তবে সিঁদুরখেলা, বিজয়ার শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সেই বিষাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের আবহ। আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তাগাছার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিদায় জানান শারদীয় দুর্গোৎসবকে।




