হবিগঞ্জে ৯৫% ডেঙ্গু রোগী ঢাকাফেরত
- হবিগঞ্জে দুই মাসে আক্রান্ত ১২৮, মৃত্যু ২
- ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজন কর্মরত ছিলেন ঢাকায়
- আক্রান্ত হয়ে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় ডেঙ্গু ছড়ানোর শঙ্কা

হবিগঞ্জে গত দুই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২৮ জন। তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে ফিরেছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। ঢাকায় কর্মরত ছিলেন তারাও। গত শুক্রবার আগামীর সময়কে এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাস।
এদিকে, রাজধানী থেকে আক্রান্ত হয়ে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় জেলার হাওরাঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাওরবেষ্টিত বানিয়াচং উপজেলার কৃষ্ণ দাস (৪৫) গত ৮ সেপ্টেম্বর এবং আফিয়া খানম (৫৪) ২ আগস্ট মারা যান। দুজনই জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে ফেরেন। পরে সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে লাখাইয়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৯ জন। আক্রান্তদের প্রায় সবাই ঢাকা থেকে ফিরেছেন। হাওরবেষ্টিত এই উপজেলার অন্তত ২০ হাজার মানুষ রাজধানীতে হোটেল ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে নিয়োজিত। একই সময়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫১, মাধবপুরে ১৪ এবং চুনারুঘাটে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে আটজন এবং লাখাই ও মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন।
জেলা সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে এডিস মশা কামড়ালে মশাটি রক্তের সঙ্গে ডেঙ্গু ভাইরাস গ্রহণ করতে পারে। পরে সেই মশা অন্য মানুষকে কামড়ালে তার শরীরে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
তিনি বলেছেন, ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে ফেরা রোগীদের মাধ্যমে জেলার হাওরাঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরা রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। মশার কামড় থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। মশারি ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি মো. বাহার উদ্দিনের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না। মশার বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত কার্যকর অভিযান চালাতে হবে। ঢাকা থেকে জেলায় ফেরা কারও জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল চৌধুরীর দাবি, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম চলছে। প্রতি শনিবার বিশেষ কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। পৌরসভার উদ্যোগের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে নাগরিকদেরও।



