কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদ্রাসা

ছবি: আগামীর সময়
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো। আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানায় সিলেট বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ।
নেতাদের অভিযোগ, গত দুই সরকারের অকার্যকর নীতি এবং বর্তমান সরকারের উদাসীনতার কারণে চরম সংকটে পড়েছে দেশের চামড়া শিল্প। ফলে কোরবানির পশুর চামড়া এখন মাদ্রাসাগুলোর জন্য লাভজনক নয়, বরং বোঝা।
মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদারা ভবনে অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলনটি। লিখিত বক্তব্যে পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান বলেছেন, ‘কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের দান, সদকা ও কোরবানির পশুর চামড়ার অর্থে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ২০১৩ সালের পর থেকে চামড়ার বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে এ খাত প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বর্তমানে চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহনে যে ব্যয় হয়, বিক্রির মাধ্যমে সেই অর্থও উঠে আসে না। এতে কওমি মাদ্রাসাগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।’
মাওলানা মুশতাকের মতে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করলেও তা কার্যকর সমাধান ছিল না। সরকারের উচিত ছিল চামড়া খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।’
বর্তমান সরকারও এ খাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি, অভিযোগ তার।
‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি কোরবানির মৌসুমে সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করবে না। তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে’— ঘোষণা জানালেন পরিষদ নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, কোরবানির মৌসুমে দেশের মোট চামড়ার ৭১ শতাংশ সংগ্রহ হয় কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমে। তাই চামড়া শিল্প রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি রশিদ আহমদ ও মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরীসহ বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।




