কর্মহীনতার পর সেন্টমার্টিনে খুলছে জীবিকার দুয়ার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হোটেলের কক্ষ থেকে সরানো হচ্ছে জমে থাকা ধুলোবালি। রোদে শুকানো হচ্ছে বিছানার চাদর। খাবারের দোকানে চলছে পসরা সাজানোর প্রস্তুতি। ডাব বিক্রির সরঞ্জাম গোছানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যান মেরামতে ব্যস্ত চালকরা। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ জুড়ে এখন এমন কর্মচাঞ্চল্য।
এই ব্যস্ততার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কর্মহীনতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা। দ্বীপের অনেক মানুষের জীবিকা পর্যটননির্ভর। মৌসুমের কয়েক মাসের আয় দিয়েই তাদের চালাতে হয় বছরের বাকি সময়ের সংসার। ফলে পর্যটকদের আগমন তাদের কাছে শুধু ব্যবসার সুযোগ নয়, আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠারও ভরসা।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নোমান ও তার পরিবারের জীবিকাও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাবা আবুল কালাম ও ভাইকে নিয়ে পাঁচ বছর ধরে এ ব্যবসা করছেন তিনি। তাদের নিজেদের দুটি রিসোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক একটি হোটেল পরিচালনার সঙ্গে মুদি দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসায় যুক্ত তারা।
নোমান বলেছেন, ‘আমাদের ব্যবসা মূলত পর্যটন মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বছরে মাত্র চার মাস ব্যবসা হয়। এই চার মাসে যা আয় করি, তা দিয়েই বাকি আট মাস পরিবারের খরচ চালাতে হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবসা বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হবে। চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন দ্বীপটিতে যেতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক। পর্যটকদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
তবে ওই দিন থেকে শুরু হচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। সরকারি অনুমোদন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। অবশ্য ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপ ভ্রমণে আগ্রহীদের নিবন্ধনের জন্য চালু হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সেন্টমার্টিনের পর্যটন ঘিরে জীবিকার প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্ন। দ্বীপটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত কয়েক বছরে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করা এবং রাতযাপনে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এ বছর দৈনিক পর্যটক ভ্রমণের সংখ্যা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করার পাশাপাশি মধ্য মার্চ পর্যন্ত রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
টেকনাফ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সন্তোষ কুমার শীল মনে করেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই স্থানীয় মানুষের আয় সমানুপাতিক হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পর্যটনের সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।



