গরমে কদর বাড়ছে তালের শাঁসের

ছবি: আগামীর সময়
কালের বিবর্তনে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে অনেকটাই হারিয়ে গেছে তালগাছ। তবে এখনও চাহিদা কমেনি তালের শাঁসের। বরং গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার হাট-বাজার ও সড়কের পাশে বেড়েছে তালের শাঁস বিক্রির ধুম। মৌসুমি এই ফল স্থানীয় অর্থনীতিতেও রাখছে অবদান।
জীবননগর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা ও সড়কের পাশে কয়েক সপ্তাহ ধরে তালের শাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, চৌরাস্তা মোড় এবং বিভিন্ন ফুটপাতে ধারালো দা দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করে বিক্রি করতে দেখা গেছে বিক্রেতাদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তালের শাঁস বিক্রি করছিলেন আলাউদ্দীন। তিনি জানিয়েছেন, মৌসুম এলেই বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। অন্য সময় কাজ করেন ভিন্ন পেশায়।
তার ভাষ্য, কেউ নরম শাঁস পছন্দ করেন, আবার কেউ কিনতে চান শক্ত শাঁস। প্রতিদিন বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ কাঁদি তাল। মৌসুমে এই ব্যবসা কিছুটা স্বচ্ছলতা এনে দেয় তার সংসারে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতিটি তালে সাধারণত শাঁস থাকে দুই থেকে তিনটি। ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি তাল। গরমের দিনে আরও বেড়ে যায় তালের শাঁসের চাহিদা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এনে বাজারে বিক্রি করা হয় এসব তাল।
গত রবিবার জীবননগর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের ধারে, পাকা সড়কের পাশে ও জনসমাগম বেশি এমন স্থানে ছোট-বড় কাঁচা তালের স্তূপ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কোথাও কোথাও ভ্যানে করে পাড়া-মহল্লায় ঘুরেও দেখা গেছে শাঁস বিক্রি করতে।
চাহিদা বেশি থাকায় সহকারী নিয়ে কাজ করছেন বিক্রেতাদের অনেকেই। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শাঁস বিক্রি করেন একজন বিক্রেতা। এতে দৈনিক গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লাভ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের ক্রেতা লিটন মির্জা বলেছেন, বছরের এ সময়ে খুব ভালো লাগে তালের শাঁস খেতে। বিশেষ করে গরমে এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, এ বছর ভালো ফলন হয়েছে তালের। নতুন নতুন গাছ থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে তাল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বজ্রপাত রোধে রাস্তার ধারে ও খালের পাড়ে তালগাছ রোপণের প্রবণতা বেড়েছে। কৃষি অফিসের পাশাপাশি তালগাছ রোপণে কাজ করছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও।







