পার্বতীপুরে বালু তোলায় ধস, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ফসলি জমির তলদেশ থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে কোথাও ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাশের কৃষিজমি ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
চণ্ডীপুর ইউনিয়নের সালন্দার বীরপাড়া গ্রামে আলম নুরের ভোগদখলীয় জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে। আলম নুর বললেন, গত ১৬ আগস্ট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন বললেন, ‘আমাদের জমির মাটি কেটে নিজেদের খাল-খন্দ ভরাট করছি।’
হামিদপুর ইউনিয়নের খলিলপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের উত্তর পাশেও বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র জমির মালিকদের কাছ থেকে বালু কিনে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পাশের জমি ধসে পড়ছে।
খয়েরপুকুর উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বললেন, বালু উত্তোলনের কারণে তার প্রায় দুই বিঘা জমির এক অংশ ধসে গেছে। ১০-১৫ ফুট গভীর গর্তের সৃৃষ্টি হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে আরও জমি ও গাছপালা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই অভিযোগ করেন হামিদপুরের কৃষক আইনুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খলিলপুর মোল্লাপাড়ার ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এরপরও মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা বললেন, ভূগর্ভস্থ বালু, মাটি উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এতে মাটির স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পাশের জমিতে ধস হতে পারে এবং কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমতে পারে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুরের ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ইউএনওকে এসএমএস পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



