জয়পুরহাট
হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং

জয়পুরহাটে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং
জয়পুরহাটে রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হাতের টানেই উঠে আসছে কার্পেটিং। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, পাঁচবিবির গলাকাটা থেকে আংড়া পর্যন্ত ৯৮০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স লিনা ইন্টারপ্রাইজ’।
উপজেলার দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, ‘১৫ দিন আগে আমাদের গ্রামের রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজন নিম্নমানের কাজ করেছেন। এর আগে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হলে আমরা বাধা দিয়েছিলাম, তখন তারা ভালোভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তার কাজে ঠিকাদার ও প্রকৌশলী দুর্নীতি করেছেন বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের কাছে দাবি জানাই, কাজটি পুনরায় তদন্ত করে রাস্তাটি মানসম্মতভাবে পাকাকরণ করা হোক।’ উত্তেজনা ও স্থানীয় সমাধান
সম্প্রতি সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠিকাদারের লোকজন পরিদর্শনে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট বলেন, ‘উপজেলার গলাকাটার এই রাস্তা নিয়ে গ্রামবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পর দলীয় নেতাকর্মী ও ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তা সমাধান করেছি।’
ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বক্তব্য নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মাহাবুব ইলাহী বলেন, ‘গ্রামবাসীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। কার্পেটিংয়ের পর বিটুমিন জমতে কিছুদিন সময় লাগে। সেই সময় পার হলে শাবল দিয়েও রাস্তার পিচ তোলা যাবে না। কিন্তু গ্রামবাসীরা হাত দিয়ে খুঁড়ে কার্পেটিং তুলে ফেলছেন।’
পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছেন। দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



