নতুন কুঁড়িতে রংপুরের বাজিমাত

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে শিরোপা জিতে পিকআপে চড়ে রংপুর নগর প্রদক্ষিণ করেছেন খুদে খেলোয়াড়রা— আগামীর সময়
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে দেশের অন্য বিভাগগুলোকে পেছনে ফেলে সাফল্যের তালিকায় নাম লিখিয়েছে রংপুর। সেই অর্জনের শিরোপা হাতে পিকআপে চড়ে নগর প্রদক্ষিণ করেছেন খুদে খেলোয়াড়রা। নগরবাসীও পথে পথে বিজয়োল্লাস, হাততালি ও শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন তাদের। পরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে দেওয়া হয় সংবর্ধনা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে ফুটবল বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রংপুর বিভাগের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে তাদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।
গতকাল সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ফুটবল বালিকা বিভাগের ফাইনালে রাজশাহী বিভাগকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর বিভাগ। কাবাডি বালিকা বিভাগেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর। সেই সঙ্গে ক্রিকেট বালক ও কাবাডি বালক বিভাগে রানার্সআপ হয়ে মোট চারটি দলীয় ইভেন্টে ট্রফি পেয়েছে দলটি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বালিকা ফুটবলার জয়া আক্তার নীলা জানান, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। শুরু থেকে প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করে তারা ফাইনালে পৌঁছেছেন। এরপর রাজশাহী বিভাগকে হারিয়ে শিরোপা জেতেন। এই জয়ের আনন্দ তাদের কাছে অনেক বড়। ফুটবলার বীথি কিসকু অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন, শিরোপা জয়ের পর নিজ এলাকায় মানুষের ভালোবাসা ও সংবর্ধনা তাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল খেলার স্বপ্ন তাদের।
নারী ফুটবল দলের কোচ রুমা আক্তার বলেছেন, ‘নতুন কুঁড়িতে প্রথমবার অংশ নিয়েই আমাদের দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের। এমন স্মৃতি কখনোই ভোলার নয়।’
কোচ মিলন খান বললেন, ‘এই নারী ফুটবলারদের জয়ের পেছনে অনেক সংগ্রাম আর ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। নিম্ন ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই মেয়েরা সমাজের নানা বাধা ও ট্রল পেরিয়ে জয় নিয়ে এসেছে এই সমাজেরই জন্য। এর জন্য তারা শতভাগ কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য।’
রংপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, নতুন কুঁড়ি-২০২৬ প্রতিযোগিতায় রংপুর অঞ্চল থেকে প্রায় ১৭০ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। চারটি দলীয় ইভেন্টসহ মোট আটটি ইভেন্টে অংশ নেন তারা। ফুটবল ও কাবাডির বালিকা বিভাগে রংপুর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ক্রিকেট ও কাবাডির বালক বিভাগে রানার্সআপ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১০০ মিটার স্প্রিন্টে রংপুরের একজন প্রতিযোগী দ্বিতীয় হয়েছেন। একই প্রতিযোগী লংজাম্পে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ব্যাডমিন্টনে রংপুর তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। জুডোতে একটি স্বর্ণপদক এবং মেয়েদের লংজাম্পে একটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে রংপুর।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনো খেলায় হঠাৎ করে সাফল্য আসে না। এই অর্জন রংপুর বিভাগের জন্য গর্বের। খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে।’
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আমরা নতুন কুঁড়ি শুরু করেছিলাম, তার সমাপ্তি কিন্তু ঘটলো। যারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন তাদেরকে অভিনন্দন। যারা এর নেপথ্যে থেকে সার্বক্ষণিক কোমলমতি খেলোয়াড়দের দেখভাল করেছেন তাদেরকে অভিনন্দন। এখানেই থেমে থাকলে হবে না, এই ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’





