২৮ কোটি টাকার ভৈরব নদ প্রকল্পে ধীরগতি, দুর্ভোগে কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুরে ভৈরব নদে নির্মাণাধীন ১৪ ভেন্টের পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ২৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি পাঁচ বছরেও। ফলে আশপাশের ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষ এখনো কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব নদ পুনঃখনন দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের ২৭ জুলাই কাজ শুরু হয় পানি সংরক্ষণাগারের। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। পরে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৮ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ও কুষ্টিয়ার নাসির উদ্দিন। সুবলপুর ও পাটাচোরা গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের খনন করা মাটি প্রভাবশালী একটি মহলের সহায়তায় বিক্রি করা হয়েছে ইটভাটায়। এতে ভাঙনের মুখে পড়েছে নদের তীরবর্তী কৃষিজমি ও প্রধান সড়ক।
পাটাচোরার এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ভাষ্য, ‘নদীতে বিলীন হয়ে গেছে তার এক বিঘা কৃষিজমি। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংস্কারের ফলে ভৈরব নদে প্রাণ ফিরলেও প্রকল্পের ধীরগতির কারণে আবার পলি জমে ভরাট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে নদ। দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকল্পের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে নদে বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সুবলপুর, পাটাচোরা, কাঞ্চনতলাসহ আশপাশ এলাকায়। ফসল রক্ষায় গত চার বছর ধরে একাধিকবার বাঁধ কেটে দিয়েছেন কৃষকরা। এতে নির্মাণাধীন অবকাঠামো তলিয়ে ঘটেছে কাজের ব্যাঘাত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অল্পসংখ্যক শ্রমিক নিয়ে কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। তবে শ্রমিক সংকট ও অতীতে জ্বালানি সমস্যার কারণে ব্যাহত হয়েছে কাজের গতি।
সুবলপুর ও পাটাচোরা গ্রামের কৃষকদের দাবি, বর্তমান কাজের অগ্রগতি দেখে জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সময়মতো কাজ শেষ না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শত শত বিঘা ফসল।
‘নদী বাঁচাও আন্দোলন’ চুয়াডাঙ্গার সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বলেছেন, রিজার্ভার নির্মাণে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না আধুনিক যন্ত্রপাতিরও। এতে শঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে। দীর্ঘ সময় প্রবাহ বন্ধ থাকলে নদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে মূল নির্মাণকাজ। তবে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে আরও দুই-তিন মাস। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করার।






