আলোর মাঝে আঁধার শুধু একটি ঘরে

সাত বছর আগে ঘর নির্মাণ করলেও পাননি বিদ্যুৎ-সংযোগ। ছবি: আগামীর সময়
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে জ্বলে ওঠে বৈদ্যুতিক বাতি। আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো মহল্লা। কিন্তু সেই আলোর মাঝেই অন্ধকারে ডুবে থাকে টিনের ছোট একটি ঘর। ইলিয়াস হাওলাদার সাত বছর আগে ঘরটি তুলে বসবাস করলেও এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো।
পরিবারটির সদস্য পাঁচজন। ইলিয়াস পেশায় রিকশাচালক। তার স্ত্রী সানিয়া বেগম, ছয় বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ, সাত মাসের শিশু হযরত বেলাল এবং বাকপ্রতিবন্ধী মা খাদিজা বেগমকে নিয়ে তার সংসার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, খাদিজা বেগমের স্বামী মজিদ হাওলাদার মারা যান ২০২১ সালে। স্বামীর মৃত্যুর আগে সংসার চালাতে তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাইতেন। এখন সংসারের পুরো দায়িত্ব ইলিয়াসের কাঁধে।
প্রথম শ্রেণিতে পড়া আব্দুল্লাহকে সন্ধ্যার পর মোমবাতি, টর্চ কিংবা মোবাইল ফোনের ক্ষীণ আলোয় পড়তে বসতে হয়। গরমের রাতে একটি বৈদ্যুতিক পাখাও চালানো সম্ভব হয় না। সাত মাস বয়সী শিশুটিও প্রচণ্ড গরমে অস্বস্তিতে থাকে। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিবারই যেতে হয় অন্যের বাড়িতে।
ইলিয়াসের ভাষায়, রাত নামলে তাদের পরিবারের কষ্ট যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাত বছর আগে ঘর নির্মাণ করলেও পাননি বিদ্যুৎ-সংযোগ।
‘আমি রিকশা চালিয়ে কোনোরকমে চালাই সংসার। এত টাকা দিয়ে কারেন্ট আনমু সে সামর্থ্য নেই আমার। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কেউ ১০ হাজার, কেউ ২০ হাজার, আবার কেউ দাবি করেন ৩০ হাজার টাকা। এই টাকা দেওয়ার সক্ষমতা নেই আমার’— ক্ষোভের সঙ্গে বললেন তিনি।
তাদের ঘরটিও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। দুই শিশুকে নিয়ে প্রতিদিন অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে— জানালেন ইলিয়াসের স্ত্রী সানিয়া বেগম।
‘আলো না থাকায় বড় ছেলেটা পড়তে পারে না ঠিকমতো। গরমে পারে না ঘুমাতে। সবার ঘরে কারেন্ট আছে, শুধু আমাদের ঘরটাই অন্ধকার’— আক্ষেপ করেন তিনি।
তার ভাষায়, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি।
বিষয়টি জানা ছিল না বললেন বাউফল কালিশুরী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মশিউর রহমান। তিনি বললেন, ‘ভুক্তভোগী কখনো আসেননি আমার কাছে।’ তবে তাকে রবিবার অফিসে আসতে বলেছেন এই কর্মকর্তা। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




