কাজ শেষের আগেই ফাটল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে চার লেনে উন্নীতকরণ এখনো চলমান। এর মধ্যেই প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পাকুন্ডা এলাকায় নির্মাণাধীন সড়ক ধসে দেখা দিয়েছে ফাটল। উপজেলার সিংলাব-পাকুন্ডা এলাকায় আন্ডারপাসের পূর্ব পার্শ্বে প্রায় ২৫০ মিটার জুড়ে দৃশ্যমান হয়েছে ফাটল। গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঘটে এ ঘটনা। দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ। তবে চলাচল অব্যাহত রাখতে পার্শ্ববর্তী বিকল্প রুটে পার করা হচ্ছে গাড়িগুলো।
খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি দাবি করেন, টানা দু-তিন দিনের বৃষ্টির কারণে সড়কের নিচের বালু সরে গিয়ে সৃষ্টি হয় এ ফাটল। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা লাগোয়া জমিগুলো গভীর হওয়ায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে সরে গেছে বালু। তবে সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় পিচ ঢালাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বাভাবে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। একাধিক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ভেতরের মাটি ও সুরকি, নিচের দিকে দেবেও গেছে। এতে পুরো এলাকায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ভূমিধসের আতঙ্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। রাতের বেলায় বিভিন্ন স্থানে মাটি চুরি হয়েছে। সড়ক নির্মাণকালে ঠিকমতো ব্যবহার হয়নি বিভিন্ন যন্ত্র। ফলে পানি দেওয়ার সময় ওই পানি বালুর ফাঁকা অংশে জমে ছিল। বৃষ্টির পানির সঙ্গে সেই বালু সরে গিয়ে সড়কে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। ফাঁকা অংশের জমে থাকা পানি ও বালু সরে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন জানালেন, যে অংশের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সেটি নিচু জমি ব্যবহার করে বালু ভরাটের মাধ্যমে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। তা ছাড়া সড়কে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। পাথর, বিটুমিনও নিম্নমানের। এ কারণেই কাজ শেষ না হতেই দেখা দিয়েছে ফাটল।
সিংলাবো গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বললেন, এ প্রকল্পে বিশাল বাজেটে রাস্তা নির্মাণকাজ হলেও সড়কের পাশে নির্মাণ করা হয়নি কোনো গাইড ওয়াল। তাড়াহুড়ো করে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কারণে মাটির চাপে দুই পাশের পুরো রাস্তা এখন দেবে গেছে। আর কয়েক দিন বৃষ্টি হলে এ সড়কের পুরো অংশ ধসে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল আলম বললেন, ‘সড়কটি আমাদের আওতায় নেই। এটি প্রকল্পে হস্তান্তর করেছি। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পে কাজ চলছে। কাজটি করছে চীনা কোম্পানি। এসব বিষয় তারাই দেখভাল করবে।’



