ডানা মেলল ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঘিরে চলমান হুমকির মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন দেশ।
গত সোমবার রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, শহর, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং মক্কা-মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়।
সৌদি আরবের পক্ষে বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি। পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং চিফ অব আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগ্লু।
বৈঠক শেষে তিন দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে সম্মত হয়ে সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টারও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বৈঠকের পর সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে হামলা মোকাবিলায় তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে একই বৈঠকে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে তিন বছরের জন্য মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
তিন দেশের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পর্যায় ছাড়িয়ে বাস্তব সামরিক প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে গেল।
সৌদি আরবের দুই বিমানবন্দরে হামলা: ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে ও রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারে গত সোমবার সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় ইয়েমেন। ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে এ অভিযানের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিম। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, অভিযান শুরুর পর থেকে ধ্বংস করা হয়েছে ৩২৪টি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু’। একই দিন রাতে সৌদির জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। পাশাপাশি গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমাঞ্চলের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।



