বরিশালে থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ ৪ জন ঢাকায় গ্রেপ্তার

আগৈলঝাড়া থানায় হামলায় স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা-ভাঙচুরের মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তারা হলেন, মামলার ১ নম্বর আসামি ইদ্রিস ফকির, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, রাব্বি ফকির ও ইয়াসিন আক্তার। তাদের বাড়ি আগৈলঝাড়ার ফুলশ্রী এলাকায়।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খাঁন এসব নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানালেন, গতকাল শনিবার ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় এই চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আজ আনা হয়েছে আগৈলঝাড়ায়। আদালতের মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয়েছে কারাগারে। এছাড়া আজ সকালে নুরু মিয়া নামে আরেক আসামিকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
ওসি ঘটনার বর্ণনায় বলেছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় রিয়াজ ফকির নামের যুবককে। রাখা হয় থানা হাজতে। রাত ১১টার দিকে তিনি হাজতখানার গ্রিলে মাথা ঠুকে পড়ে যান। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন দুপুরে রিয়াজের গ্রামে ছড়ানো হয় তার মৃত্যুর গুজব। বিকাল ৪টার দিকে দুই থেকে তিনশ নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে থানায় হামলা করেন। মারধর করেন এএসআই আব্দুল হালিমসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাঁধে সংঘর্ষ।
রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয় হামলার মামলা। রাতভর অভিযানে গ্রেপ্তার হন রিয়াজের বাবা-বোনসহ ১৮ জন। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বের হওয়ার পর রিয়াজকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে।
আগৈলঝাড়া থানার এএসআই আল-আমিনের ভাষ্য, হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়ার পথেও রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করছিলেন। পুলিশকে দিচ্ছিলেন বিভিন্ন হুমকিও। এলাকায় তিনি মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। আগেও র্যাব ও পুলিশের হাতে মাদকসহ একাধিকবার আটক হয়েছিলেন। রিয়াজের নামে অন্তত তিনটি মাদক মামলা আছে থানায়।
শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার নির্দেশনা দেন তিনি। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।




