দিনে বাড়িতে চুরি, রাতে পাহারাদার বেঁধে ট্রান্সফরমার লুট

ছবি: আগামীর সময়
মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। একদিকে দিনের বেলা ব্যবসায়ীর বাড়িতে তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে, অন্যদিকে রাতে পাহারাদারকে বেঁধে গভীর নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরমার লুট করেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকায় ধান ব্যবসায়ী এম এম হিরো সরকারের বাড়িতে শনিবার দুপুরে চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হিরো সরকার জানান, সকালে পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিল না। এই সুযোগে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্র। দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায়। চোরেরা নগদ ৬ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে দাবি তার। এ ছাড়া ঘরে থাকা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রসহ বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি থানায় জানান।
এদিকে পৌর এলাকার বুড়াইল সরদারপাড়া মাঠে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংঘবদ্ধ চোরচক্র গভীর নলকূপের তিনটি ১০ কেভির ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়। ট্রান্সফরমারগুলো ছিল মাহবুব হোসেন সরদার ও মোসাদ্দেক হোসেন সরদারের যৌথ মালিকানাধীন গভীর নলকূপের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চোরেরা প্রথমে পাহারাদারকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। পরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামিয়ে ভেতরের তামার তার খুলে নেয়। ঘটনাস্থলে ট্রান্সফরমারের খালি খোলস ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। রবিবার সকালে স্থানীয়রা পাহারাদারকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নলকূপের মালিক মাহবুব হোসেন উল্লেখ করেন, এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চলতি সেচ মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২০ থেকে ২২টি ট্রান্সফরমার এবং ১৫টি বিদ্যুৎ মিটার চুরি হয়েছে। চোরেরা ট্রান্সফরমারের খোলস রেখে ভেতরের তামার তার নিয়ে যাচ্ছে। এতে আবার সংযোগ নিতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। একের পর এক চুরির ঘটনায় সেচব্যবস্থা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্ষেতলাল জোনাল অফিসের এজিএম তৌকির আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আরও ২০ থেকে ২২টি ট্রান্সফরমার ও ১৫টি বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জিডি করা হয়েছে থানায়। কৃষকদের সচেতনতায় করা হচ্ছে মাইকিং।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মোক্তাদুল আলম জানান, বাড়িতে চুরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বুড়াইল মাঠে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাতেও তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।




