শ্যামনগরের কমিউনিটি ক্লিনিকে ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি

দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ভাঙা দরজা-জানালা আর স্যাঁতসেঁতে দেয়াল জুড়ে ছাদের পানি পড়ার চিহ্ন। বৃষ্টি হলে রোগীদের বসার জায়গায় পানি পড়ে। তা ঠেকাতে ছাদের নিচে টানানো হয়েছে নীল পলিথিন। এমন জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।
এটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট হাঁসারচক কমিউনিটি ক্লিনিক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ধুমঘাট, হাঁসারচকসহ চার গ্রামের ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ এই ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এটি কাছের স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
ক্লিনিকে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্লিনিকে যাওয়ার ইটের সড়কটিও খানাখন্দে ভরা। বর্ষায় কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) দীপঙ্কর কুমার মণ্ডল বলেছেন, ‘ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। কখনো রোগীদের বসার জায়গাতেও পানি জমে যায়। তখন পলিথিন টানিয়ে কোনোভাবে সেবা চালাতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে নিরাপদ পরিবেশে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা চান তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা ধুমঘাটের বাসিন্দা রোজিনা খাতুন (৩৬) জানিয়েছেন, ক্লিনিকটি তাদের খুব প্রয়োজন। কিন্তু ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। দ্রুত সংস্কার করা দরকার।
ওষুধ সরবরাহের বিষয়ে দীপঙ্কর কুমার মণ্ডলের ভাষ্য, আগে ২৭ ধরনের ওষুধ দেওয়া হতো। এখন অ্যান্টিবায়োটিক বাদ দিয়ে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, সরেজমিনে তিনি ক্লিনিকটির অবস্থা দেখেছেন। সংস্কার ও নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ কারণে সেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন সীমিত বলে জানিয়েছেন তিনি।



