বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মারা গেছেন

আব্দুস সাত্তার। সংগৃহীত ছবি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার (৮৮) মারা গেছেন। গতকাল রবিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রবিবার রাত ৯টার দিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আব্দুস সাত্তারকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
১৯৩৮ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আব্দুস সাত্তার। তার পিতার নাম প্রয়াত নয়ন মোল্লা মণ্ডল। রাজশাহী নগরের শাহ মখদুম আবাসিক এলাকায় ছিল তার স্থায়ী বসবাস।
১৯৬০ সালে দিনাজপুর জেলায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সাত্তার। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি দিনাজপুর পুলিশ লাইনে হাবিলদার পদে কর্মরত ছিলেন। ওই রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। পরে তৎকালীন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আবুল হাশেমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন।
তার সাহসী ভূমিকার কারণে পাকিস্তানি সেনারা সৈয়দপুরে সরে যেতে বাধ্য হয়। ফলে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দিনাজপুর শহর শত্রুমুক্ত ছিল বলে তার মুক্তিযুদ্ধকালীন জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। পরে ২৩ এপ্রিল ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলায় যান আব্দুস সাত্তার। সেখানে তিনি ৭ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন। এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান। লালগোলা সাব-সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মেজর গিয়াস আহমেদ চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয় একের পর এক অভিযানে অংশ নেন তিনি। অভয়া ব্রিজ ও মহিষ কুড়ি অভিযান, চর আলাতুলি ও দেবীনগর অভিযান এবং নবাবগঞ্জের ১০০ ঘাটার যুদ্ধসহ একাধিক সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন। স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা এ মানুষটির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে একাত্তরের সেই দিনগুলো।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন আব্দুস সাত্তার। পরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে টিএসআই পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যান তিনি।
তার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করা আব্দুস সাত্তারের প্রয়াণে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনের অবসান হলো। দেশের স্বাধীনতার জন্য তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।




