সংস্কারের ১৫ দিনেই খানাখন্দে পরিপূর্ণ পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা ১৯ কিলোমিটার সংস্কারের ১৫ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার শাখারিয়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৭১ কিলোমিটার মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ও দায়সারা কাজের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনরায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনের শুরুতে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ৩০ জুন কাজ শেষ হলেও মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কার করা অংশের অনেক জায়গায় পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
যাত্রী তানজিলা, জিয়া উদ্দিন জুয়েল ও নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অল্প কিছুদিন আগেই সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। অথচ এরই মধ্যে সড়কটি আগের চেয়েও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।
তুহিন পরিবহনের চালক সাদ্দাম মিয়া বলেছেন, খানাখন্দের কারণে যানবাহন চালাতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। নতুন সংস্কার করা একটি সড়কের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এমন অবস্থা হওয়ার কথা নয়।
চালক মো. নিজাম উদ্দিন ও সালাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান, রাসেল ও শাহ আলম দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০০ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৭১ কিলোমিটার মহাসড়কটি নির্মাণ করে। নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ দেখা দেয়। পরে ২০১৮ সালে সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। বর্তমানে এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯১২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।
এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও এ সড়ক ব্যবহার করে।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





