ওয়াসিম হত্যার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

শহীদ ওয়াসিম আকরামের সমাধিতে দোয়া পাঠ করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: আগামীর সময়
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম হত্যার বিচার দুই বছরেও সম্পন্ন না হওয়াকে বিচার বিভাগের দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ায় শহীদ ওয়াসিমের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, জিয়ারত ও দোয়া পাঠ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে তিনিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে দেশের জনগণই তা প্রতিহত করবে।
বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিবাদকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। তারা এখন যে ধরণের বক্তব্য দিয়ে চলেছে, এটা কেবল মাত্র তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। সেটিকে আমরা কোনোভাবে সফল হতে দেব না বলে মন্তব্য করেন ইশরাক।
কারো নাম উল্লেখ না প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আমরা তাদের ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে বসে আছি। তারা আসুক বাংলাদেশে, আমরাও দেখিয়ে দেবো যে বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জানেন। যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আমরা দেখিয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দেশ ও দেশের মানুষ তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুনসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী শহীদ ওয়াসিমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেছেন, ‘দুই বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। হত্যাকাণ্ডের যিনি নির্দেশদাতা, তিনিও সমানভাবে অপরাধী। তারও বিচার হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বললেন, ‘খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই জুলাই-আগস্টের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।’
দক্ষিণ মেহেরনামায় শহীদ ওয়াসিমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন মা জোছনা বেগম। ঘরের এক কোণে যত্ন করে রাখা ছেলের পাওয়া ক্রেস্ট, বিভিন্ন সম্মাননা, উপহার ও ছবিগুলো বারবার স্পর্শ করছিলেন তিনি। কথা বলতে বলতে বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
জোছনা বেগম বলেছেন, ‘ছেলেকে খুব মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। বাজার থেকে শুকনো খাবার এনে দিয়েছিল, বাড়ির সব কাজও করেছে। কবরের পাশে গেলে ফিরতে মন চায় না। মনে হয়, ছেলেটা এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।’
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াসিম। তিনি ছিলেন ওই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. নুরুল আখতার নিলয়, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাইমুর রহমান হৃদয়, ছাত্রনেতা হিরণ সরওয়ার প্রমুখ।






