জরিপ
বিশ্বে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা, বাড়ছে চীনের

২০১৯ সালে বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের শীর্ষ নেতা শি। ছবি : রয়টার্স
বিশ্বের অনেক দেশে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। আমেরিকান গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন জরিপে ওঠে এসেছে এমন তথ্য।
অলাভজনক এই আমেরিকান প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৩৬টি দেশের ৪২ হাজার বেশি মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। যেখানে বেশিরভাগ দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্ববাসীর ধারণা আরও নেতিবাচক হয়েছে।
আমেরিকান এ সংস্থাটির ভাষ্য, ইতিহাসে এই প্রথম এমন ফলাফল রেকর্ড করা হয়েছে।
জরিপের অন্যতম গবেষক জোনাথন শুলম্যান জানিয়েছেন, ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক মনোভাব পর্যবেক্ষণ করার পর এই প্রথম এত বেশি দেশে মার্কিনবিরোধী এমন ফলাফল দেখা গেল।
এর আগে, ২০০৮ সালে জর্জ বুশ প্রশাসনের শেষে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ধস নামলেও চীনের জনপ্রিয়তা তখন সমান বা কিছুটা কম ছিল।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডায় চীনের দিকে সবচেয়ে বেশি জনমত পরিবর্তনের জোয়ার দেখা গেছে। মাত্র ছয়টি দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি পছন্দ করে, যার বেশিরভাগই আমেরিকার কট্টর মিত্র। এগুলো হলো পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরায়েল।
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, মধ্যম আয়ের দেশগুলো সাধারণত চীনের প্রতি ইতিবাচক এবং ধনী দেশগুলো নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। তবে সিঙ্গাপুর এর ব্যতিক্রম, যেখানে উচ্চ মাথাপিছু আয় থাকা সত্ত্বেও চীনের প্রতি ইতিবাচকতা বেশি। পাকিস্তানের ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে পছন্দ করলেও জাপানের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১১ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে, উত্তরদাতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিং— উভয়ের ওপরই বিশ্ব বিষয়ে সঠিক কাজ করার ক্ষেত্রে কম আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের তুলনায় শি-এর স্কোর কিছুটা বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, যদিও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে বেশি সম্মানজনক মনে করা হয়, তবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম হস্তক্ষেপ করে বলে মানুষের ধারণা।
নেতৃত্বের প্রশ্নে, পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ মানুষ শি-এর ওপর আস্থা রাখলেও জাপানে তা মাত্র ৭ শতাংশ। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ রেটিং এসেছে ফিলিপাইন থেকে এবং সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ এসেছে পশ্চিম তীর বা পূর্ব জেরুজালেম থেকে।
এ বিষয়ে শুলম্যান জানিয়েছেন, মানুষের শি-এর ব্যাপারে ততটা জোরালো মতামত নেই যতটা অন্য নেতাদের ক্ষেত্রে আছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষের উত্তর দেওয়ার এবং নেতিবাচক উত্তর দিতে দেখা গেছে।
কার্নেগি চায়নার বিশেষজ্ঞ চং জা ইয়ান বলেছেন, এই ফলাফল অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। যুদ্ধ এবং এর ফলে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী করে তুলেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, চীন সম্পূর্ণ জনপ্রিয় কি না তা একটি প্রশ্ন হতে পারে, তবে বর্তমানে এটি একটি অধিকতর নির্ভরযোগ্য সত্তা বলে মনে হচ্ছে। বেইজিং তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কঠোর পরিশ্রম করছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয়।
তবে তিনি সতর্ক করেছেন, চীনের প্রতি ইতিবাচকতা বাড়লেও শি জিনপিং একজন বড় মাপের কর্তৃত্ববাদী নেতা হিসেবেই পরিচিত।
সূত্র : বিবিসি




