বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

দিবসটি উপলক্ষে ‘বাংলার ঈগল’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন। ছবি: আগামীর সময়
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকালে মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকা মতিউরের স্মৃতিফলক ও ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুদ রানা ও অন্যান্যরা। পরে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মাত্র ২৯ বছর বয়সে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন তিনি।
মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের "মোবারক লজ"-এ জন্ম নেন। তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে। যা এখন মতিউরনগর নামে পরিচিত। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৬ষ্ঠ। তার বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।
তিনি ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পি,এ,এফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কমিশন পাওয়ার পর তিনি করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) এয়ার বেজ এর ২ নম্বর স্কোয়ার্ডন এ জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা আসেন ও ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান ৷ কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে জঙ্গি বিমান দখল এবং সেটি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তাকে তখন বিমানের সেফটি অফিসারের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিমান দখলের জন্য ২১ বছর বয়সী রাশেদ মিনহাজ নামে একজন শিক্ষানবীশ পাইলটের উড্ডয়নের দিন টার্গেট করেন। করাচির মাশরুর বিমানঘাঁটি থেকে টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করেন তিনি। পাকিস্তানী জঙ্গি বিমানগুলোর বাধার মুখেও বিমান নিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বিমানটি কম উচ্চতায় উড্ডয়ন করার ফলে একসময় বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। মতিউর রহমান শহীদ হন।







