ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ রাষ্ট্রদূতের

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মঁসিয়ে জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন। আজ রবিবার সাড়ে ১১টার দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও তার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফরাসি সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ফ্রেডেরিক ইনজা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প।
এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং যুগ্মসচিব ইলিয়া সুমনা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করে। এই তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে ফ্রান্স আগ্রহী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের যুবসমাজের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষায়িত ফরাসি ভাষা প্রশিক্ষণ চালুর বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবগুলো স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বললেন, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। তিনি ১৯৮৭ সালের ১০ মার্চ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক চুক্তিটি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে দ্রুত নবায়ন ও আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৯২ সালের এ চুক্তিটি যৌথ গবেষণা অব্যাহত রাখার স্বার্থে পুনরায় স্বাক্ষরের জন্য বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এবং চট্টগ্রামের কেন্দ্রের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করে তরুণদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।


