এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে আ. লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ নেতাকর্মীদের

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন, সরকারি পুকুর ইজারা ও ডিলার নিয়োগে অনিয়ম এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠন ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী নগরের অলোকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন পুঠিয়া-দুর্গাপুরের বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী।
এ সময় তারা অভিযোগগুলোর তদন্ত, দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলামের প্রত্যাহার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন। এ সময় বক্তব্য দেন বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী ও সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় তার সঙ্গে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত ও আওয়ামী লীগকর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টু ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের এভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের বেশির ভাগ সরকারি পুকুর সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করাচ্ছেন। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ পেতে সহায়তা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যের সুপারিশপত্রে তাদের নাম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, পুঠিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট রিশাদ হোসেন কেতাব ডিলারশিপ পেয়েছেন। পুঠিয়া পৌরসভা এলাকায় ডিলারশিপ পেয়েছেন সংসদ সদস্যের নাতিজামাই শাহেদ হাসান, যার বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের সুপারিশে ডিলারশিপ পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শফিউল ইসলাম।
এ ছাড়া এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে সংসদ সদস্য তার পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা জামায়াতের নেতাকর্মীদের সভাপতি ও সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিভিন্ন সরকারি ও দলীয় অনুদান, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বরাদ্দ এবং উন্নয়নকাজের থোক বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তারা। এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদল ও যুবদলের চার নেতাকে বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে বহিষ্কার করানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আওয়ামী লীগপ্রীতির অভিযোগ তুলে ফেসবুকে মন্তব্য করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন যুবদল নেতা দেলোয়ার সরকার আল-আমীন।
তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট পুঠিয়ার বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকেসহ বিএনপির নয়জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে দেলোয়ার বলেন, সংসদ সদস্যের কথায় তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে।
দেলোয়ারের অভিযোগ, গত ১১ অক্টোবর আরও চারজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করা হয়। এসব মামলার পেছনে সংসদ সদস্যের চাপ রয়েছে এবং পুঠিয়া থানার ওসি তাকে সহযোগিতা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মামলার বাদী খন্দকার সোহেল মাহমুদকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দেলোয়ার দাবি করেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবিব খানের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্যের চাপে মামলা নেওয়ার কথা তাদের জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব বলেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিব খান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলের ভাতিজা আজাদ মন্ডলের জামাতা। হাবিব খান শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা জানতে চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর তাকেও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন আহসান হাবিব।
বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে পুঠিয়া-দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম মন্ডল ছাড়াও আরও অনেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। যারা নজরুল ইসলাম মন্ডলের পক্ষে ছিলেন না, তাদেরই হয়রানি করা হচ্ছে। আর পুনর্বাসন করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলামের প্রত্যাহার দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে সোমবার দুপুরে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাতিজা তানজিম আরিন ফোন রিসিভ করে জানান, সংসদ সদস্য বিশ্রামে আছেন। পরে বিকেলে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




