কালীগঞ্জ
নকল ব্র্যান্ডের বিড়ির রমরমা ব্যবসা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ছবি: আগামীর সময়
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল বিড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে একাধিক অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলায়ও এসব নকল বিড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে প্রতি বছর সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার দেবরাজপুর ও পারখিদ্দা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, দেবরাজপুর গ্রামের প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি বাড়িতে এবং পারখিদ্দা গ্রামের ৭ থেকে ৮টি বাড়িতে নকল বিড়ি তৈরির কাজ চলছে। গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই কাজে যুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিড়ি তৈরির বিভিন্ন ধাপ আলাদা আলাদাভাবে সম্পন্ন করা হয়। কেউ বিড়ির খোল বা পাতা তৈরি করছেন, কেউ খোলের মধ্যে তামাক ভরছেন, কেউ লেবেল লাগাচ্ছেন, আবার কেউ নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। পরে ২৫টি করে প্যাকেটজাত করে সুবিধামতো সময়ে মহাজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এসব শ্রমিক প্রতি এক হাজার স্টিক বিড়ি তৈরি করে মজুরি হিসেবে পান মাত্র ৫০ টাকা। পরে রাতের আঁধারে বিভিন্ন এজেন্ট ও হাট-বাজারের বড় ব্যবসায়ীদের কাছে এসব নকল বিড়ি সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে উপজেলার বারোবাজার, দুলাল মুন্দিয়া ও মিলসগেট এলাকায় এসব চালান যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দূরবর্তী জেলাগুলোতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও পাঠানো হচ্ছে নকল বিড়ি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে বিড়ি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে এর আগে দেবরাজপুর গ্রামের শাহাজান আলী ও আমীর হোসেনের বাড়িতে কয়েক দফা অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেসময় বিড়ি তৈরির মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও পরে আবারো শুরু হয় এই ব্যবসা।
তার ভাষ্য, শাহাজান আলী এলাকায় সবচেয়ে বড় বিড়ি ব্যবসায়ী। তিনি নকল গুলও তৈরি করে বাজারজাত করেন। তার বাড়িতে বিড়ি তৈরির মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার নারী ও শিশুরা তার আউটসোর্স কর্মী হিসেবে কাজ করেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তিনি কাঁচামাল, সরঞ্জাম ও তৈরি করা নকল বিড়ি বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে শাহাজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আগে করতাম এখন করিনে।’ এরপর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেনের ভাষ্য, নকল বিড়ি তৈরির বিষয়টি জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।




