একই খাটিয়ায় পাশাপাশি মা-ছেলের নিথর দেহ

একই খাটিয়ায় পাশাপাশি মা-ছেলের মরদেহ— আগামীর সময়
ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির উঠানে একই খাটিয়ায় পাশাপাশি পড়ে আছে মা-ছেলে নিথর দেহ। চারদিকে স্বজনদের কান্নার রোল, মূর্ছা যাচ্ছেন অনেকেই। ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
রবিবার (৩১ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে এমন করুণ দৃশ্য। নিহতরা আব্দুস সালামের স্ত্রী আমিনা বেগম ও দেড় বছরের ছেলে আসাদ।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকা বাচামারা গ্রামে বড় ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) ও ভাতিজাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ছোট ভাই ইউসুফ। বড় ভাই সালাম বাড়িতে আসলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্বজনরা বলছিলেন, ‘কেন ও (অভিযুক্ত ইউসুফ) ওদের মারল? ওরা তো কোনো অপরাধ করেনি।’ অভিযুক্ত ইউসুফের কঠিন শাস্তির দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের আগে বাচামারা গ্রামে বড় ভাই আবদুস সালামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ইউসুফ। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে তিনি তার ভাবি ও ছোট ভাতিজাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এর কিছুক্ষণ পর বড় ভাই সালাম বাড়িতে ফিরলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন, ফলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে ঘরে ঢুকে স্থানীয়রা সালামের স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হয়।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেছেন, ‘নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্ত ইউসুফকে গ্রেপ্তারের কাজ করছে পুলিশ।’







