অপহরণের ১০ দিন পর মুক্তি পেলেন রিদয়ন

রিদয়ন আনসারী। সংগৃহীত ছবি
অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে রিদয়ন আনসারীকে (২৫)।
গতকাল সোমবার রাতে অপহরণকারীরা তাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। আজ মঙ্গলবার সকালে একজেন ট্রাকচালকের সহায়তায় নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছান রিদয়ন। সেখানে এক পাঠাও চালকের মোবাইল ফোন থেকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার বাসায় নিয়ে যান।
রিদয়ন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের মৃত আবদুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার নিউ ইস্কাটনে বসবাস করেন। বিবিএ পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকায় বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন রিদয়ন। আব্দুল্লাহপুর থেকে মগবাজার যাওয়ার উদ্দেশে প্রভাতি বনশ্রী বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি উত্তরা আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে তার পাশে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি এসে বসেন। এর পরপরই রিদয়ন অচেতন হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী জানান, অপহরণকারীরা তাকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল। সারা দিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো এবং সারাক্ষণ হাত ও চোখ বাঁধা থাকত।
ঘটনার পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে রিদয়নকে জীবিত ফেরাতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বজনরা দিশাহারা হয়ে অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ ও নগদ নম্বরে দফায় দফায় ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পেয়েও তারা রিদয়নকে না ছেড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ ছাড়া রিদয়নের মোবাইল ফোন, ইমেইল, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
সোমবার রাতে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে মির্জাপুরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় আসেন তিনি। এরপর এক রাইড শেয়ারিং (পাঠাও) চালকের মোবাইল থেকে মায়ের নম্বরে কল দিয়ে নিজের অবস্থান জানান রিদয়ন। স্বজনরা নবীনগর স্মৃতিসৌধের সামনে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বাসায় নিয়ে যান।
টানা ৯ দিন বন্দি থাকায় রিদয়ন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পরিবারটি জানায়। তার শরীরে জ্বর ও ব্যথা রয়েছে এবং কথা বলতে কিছুটা অস্পষ্টতা দেখা দিচ্ছে। তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।
এ ঘটনায় ২৫ অক্টোবর রিদয়নের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি জিডি করেন। পাশাপাশি এসআরবি-৩ (খিলগাঁও ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে রিদয়নকে উদ্ধারের দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।




