আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে কুমারখালীতে বিক্ষোভ, আশ্বাসে স্থগিত কর্মসূচি

ছবি: আগামীর সময়
কুষ্টিয়ার কুমারখালি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ও ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’-এর যাত্রাবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্টেশন এলাকায় পালিত হয় এ কর্মসূচি। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইন অবরোধের চেষ্টা করলে প্রশাসনের আশ্বাসে শান্ত হয় পরিস্থিতি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যাতায়াত, বাণিজ্য ও পর্যটনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কুমারখালীতে থামে না কোনো আন্তঃনগর ট্রেন। অথচ রাজনৈতিক প্রভাবে পাশের পাংশা ও খোকসা উপজেলায় চালু করা হয়েছে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি। স্থানীয়রা একে উল্লেখ করেছেন ‘ভৌগোলিক বৈষম্য’ হিসেবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, কুমারখালী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জনপদ। এখানে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা এবং কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের বাড়ি। পর্যটন ও তাঁতশিল্পের কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল মানুষের যাতায়াত হয় এ অঞ্চলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাস ঢাকা অভিমুখে চলাচল করলেও আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় যাত্রীদের কুষ্টিয়া বা খোকসা গিয়ে ট্রেনে ওঠতে হয়। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
কুমারখালীর বাসিন্দা মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি কুমারখালীতে না থামায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া এবং ৯ কিলোমিটার দূরে খোকসাতে গিয়ে ট্রেনে ওঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল আহমেদ তিয়াস বলছেন, কুমারখালীতে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুধু যাতায়াতের দাবি নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি সচল রাখারও যৌক্তিক দাবি।
কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাসের ভাষ্য, ব্রিটিশ আমলে কুমারখালীকে বলা হতো ‘বাংলার ম্যানচেস্টার’। ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এখন অবহেলার শিকার এলাকাটি।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে রেলওয়ের সচিব ও মহাপরিচালকের এবং এ বিষয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইল। আগামী ২৭ জুনের মধ্যে কুমারখালীতে আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।




