সিংড়ায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর, অবরুদ্ধ ৭ পরিবার

সংগৃহীত ছবি
নাটোরের সিংড়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে ইটের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আয়াত আলীর বিরুদ্ধে। এতে চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হওয়ায় সাত পরিবারের সদস্যরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০ বছর ধরে ওই পথ দিয়ে চলাচল করে আসছিলেন তারা। সম্প্রতি ওই পথের ওপর ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাবেক সেনাসদস্য মাহবুবুর রহমান, কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনসহ সাতটি পরিবারের সদস্যরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বিচার হলেও তা কার্যকর হয়নি। আয়াত আলী ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান জানালেন, ‘২০১৮ সালে আমি স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করি। ২০১৯ সালে মাপের পর রাস্তা বাদ দিয়ে পাঁচ ফুট জায়গা তার সীমানায় যায়। তখন স্থানীয়ভাবে তার সুবিধার কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে আমি শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ জায়গা বিক্রি করি। এভাবে চলার একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর আগে সে আমার জায়গাসহ রাস্তা দখল করে বসতভিটা নির্মাণ করে। বারবার নিষেধ করলেও তা মানেনি। সম্প্রতি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য প্রাচীর নির্মাণ এবং ইটের গাঁথুনি দিয়ে দরজা তৈরি করেছে।’
কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন জানালেন, ‘আমার সন্তান নেই। কোনো গণ্ডগোল ভালো লাগে না। হজ করে এসেছি, নিরিবিলি থাকতে চাই। কিন্তু প্রতিবেশী আয়াত আলী আমাদের ওপর জুলুম করছেন। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে আয়াত আলী জানালেন, তার বাড়ির সীমানায় তিন ফুট জায়গা রয়েছে। তবে সাত পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আ. মমিন সরকার ও আ. জলিল জানালেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানালেন, সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয়পক্ষকে আইনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।



