এবার রাজিবপুরে গুদামে হট্টগোল, সারের বস্তা লুটের অভিযোগ

রাজিবপুর ইউএনও কার্যালয়ের সামনে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ। ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীর পর এবার রাজিবপুরে গুদাম থেকে সার নিয়েছেন কৃষকরা- উঠেছে এমন অভিযোগ। ক্ষুব্ধ কৃষকদের ডিলার লাঠিপেটা করতে গেলে বাঁধে হট্টগোল। পুলিশ গিয়ে পরে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
কৃষকদের অভিযোগ, ‘সফি এন্টারপ্রাইজ’ নামের ডিলার পয়েন্টে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৩টা থেকে সারের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। আজ সকাল ১০ পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও পাননি সার। পরে কয়েকজনকে গুদাম থেকে সারের বস্তা নিয়ে যেতে দেখেন তারা। ডিলার শফিউর রহমান ও তার লোকজন অপেক্ষায় থাকা কৃষকদের লাঠিপেটা করতে যান।
শফিউরের দাবি, পুলিশ আসার আগেই কয়েক বস্তা সার লুট হয়েছে। পরে কিছু ফেরত পাওয়া গেছে।
রাজিবপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য লুটের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পুলিশের দাবি, সার লুটের চেষ্টা হয়েছে। তবে পুলিশ গিয়ে তা ঠেকায় ও সুষ্ঠুভাবে বস্তা বিতরণ করে।
পরে ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে যান কৃষকদের একটি দল। খোলা বাজারে দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।
রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শায়েকুল হাসান খান বললেন, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ডিলারের শফিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে সার সংকট পৌঁছেছে চরমে। সারের বস্তার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের।
গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার না পেয়ে গোডাউন লুট করেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। তদন্তে বেরিয়ে আসে ডিলারের গাফিলতির তথ্য। এর ১৫ দিনের ব্যবধানে রৌমারীর গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান আরেক দল কৃষক। একই দিনে অন্য এক ডিলার পয়েন্টে পরিস্থিতি সামলাতে মোতায়েন করতে হয় পুলিশ ও বিজিবি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, নেই কোনো সংকট। চলতি সেপ্টেম্বর জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের রয়েছে পর্যাপ্ত বরাদ্দ। কৃষকদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিলাররা সার লুকিয়ে রাখছেন গোপন গোডাউনে।





