সালমান হত্যার বিচার দাবি
বিক্ষোভে ২ ঘণ্টা অচল কক্সবাজার বাসটার্মিনাল

ছবি: আগামীর সময়
সালমান হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে কক্সবাজার শহর। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশাল মিছিল নিয়ে বাসটার্মিনাল এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তাদের দাবি, সালমান রাশেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বরং নিহত নাজিবুল হক রাশেদের বন্ধু হিসেবে তিনি সংঘর্ষের সময় তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাকেই হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে ব্যাপক মারধর হত্যা হয়। বক্তাদের ভাষ্য, রেনেসাঁ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ চলার পর ঘটনাস্থলে যান কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহামুদুল হাসান ও সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর বাসটার্মিনাল এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের দ্বিতীয় তলার বারে। পুলিশ ও বার কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, নাজিবুল হক রাশেদ ও আনসার নামে দুই ব্যক্তি বসে মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আনসার তার পরিচিত তাজওয়ার হক রাধি ও সালমানকে সেখানে ডেকে নেন বলে জানা গেছে।
স্বজনদের ভাষ্য, সালমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাজওয়ার হক রাধি রাশেদকে ছুরি মেরে পালিয়ে যান। ছুরির আঘাতে আহত রাশেদকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশেদের স্বজন ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে এসে সালমানকে মারধর করে। পরে আরও দুই দফায় মারধরের পর ফিশারিঘাট এলাকার একটি বরফকলে নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করে।
নিহত সালমানের স্ত্রী তানজিনা রুশির দাবি, বরফকলে নিয়ে তৃতীয় দফায় তার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সালমান নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
গুরুত্বর আহত সালমানকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত রাশেদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘রেনেসাঁ হোটেলের বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
বারটিতে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের কাছে মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, এ কারণে বারটির অনুমোদন ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার আসরের নামাজের পর নতুন বাহারছড়ার তৈয়্যাবিয়া তাহেরিয়া মাদ্রাসা মাঠে নিহত রাশেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জুমার নামাজের পর রাশেদ হত্যার বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল।
অন্যদিকে ময়নাতদন্ত শেষে সালমানের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তার স্বজনরা। রাতেই তার মরদেহ শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ১০টায় শহরের এস এম পাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন মাঠে সালমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।








