রাজবাড়ীতে চলন্ত ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগি ধাক্কা দিল বাস-রিকশায়, নিহত ২

সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওয়াগনের ধাক্কায় মাহিন্দ্রা ও অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী।
প্রত্যক্ষদর্শী হিমু খান জানালেন, মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি রেলগেটে পৌঁছানো মাত্র ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন গেটম্যান। তার পেছনে আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা সামনে চলে যান। কয়েক মুহূর্ত পর বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা কয়েকটি ওয়াগন বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে মাহিন্দ্রা ও অটোরিকশাও সংঘর্ষের শিকার হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ওয়াগনগুলো কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ, অসিত ও সাত্তার বিশ্বাস জানালেন, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং (চেইন) ছিঁড়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ায় গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলো সজোরে ওই যানবাহনগুলোকে ধাক্কা দেয়।
তারা আরও জানালেন, দুর্ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা গেছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে রাজবাড়ী রেলওয়ে অঞ্চলের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।




