ময়মনসিংহ
৩ দিন পর প্রত্যাহার ১৪৪ ধারা, এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক

দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নে জারি হওয়া ১৪৪ ধারা তিন দিন পর প্রত্যাহার হয়েছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছেন অনেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আজ রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল হয়েছে স্বাভাবিক।
জমির বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার। ঘটনাস্থল খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকা। ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের মো. শওকত আলীর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে ২ শতাংশ জমি নিয়ে চলছে বিরোধ। এ নিয়ে আদালতে চলছে মামলাও। গত বুধবার সকালে শওকত আলী ওই জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তা ভেঙে দেন আব্দুর রউফ।
এ নিয়ে রাতেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আব্দুর রউফ থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, পরদিন সকালে রউফের সমর্থকরা শওকতের ভাই লিয়াকত আলীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এর জেরে শওকত, লিয়াকত ও তাদের সমর্থকরা জড়ো হন খারুয়া বাজারে।
একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাজার এলাকায়। দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান ব্যবসায়ীরা।
ইউএনও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় জারি করেন ১৪৪ ধারা।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গত শুক্রবার দুই পক্ষের ৭০ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এর পর থেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রামের পুরুষরা বাড়ি ছাড়ছেন বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বললেন, ‘সংঘর্ষের মামলায় এ পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে।’




