ঋণ করে প্রবাসে, স্বপ্ন পূরণের আগেই ফিরলেন নিথর দেহে

প্রয়াত ওয়াসিম (৩২)
সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ঋণ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের মাগুরা সোনারপাড়া গ্রামের ওয়াসিম (৩২)। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে আর জীবিত ফেরা হলো না তার। গত বুধবার এই প্রবাসী কর্মী কর্মস্থলে কর্মরত অবস্থায় মারা যান। নিজ বাড়িতে ফিরেছেন নিথর দেহে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ওয়াসিম। বিগত ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর দুটি অবুঝ শিশু, বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রীকে রেখে প্রবাসে যান তিনি। আশা ছিল, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটাবেন।
প্রতিবেশী ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৯ মে ওয়াসিম ছুটি পেয়ে মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি দীর্ঘ ছুটি শেষে ১৭ জুলাই আবার মালয়েশিয়ায় যান। মালয়েশিয়ায় পা রাখার ৫ দিনের মাথায় এল তার মৃত্যু সংবাদ। অবুঝ দুটি শিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই চলে গেলেন তিনি।
এদিকে, গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ওয়াসিমের লাশ পৌঁছে। প্রায় ৬ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে পাঠানো একমাত্র ছেলেকে কফিনে বুঝে নেন তার বাবা শহিদুল ইসলাম, পুত্রবধূ তাপসী বেগম ও সাত বছরের শিশু তোহা। স্বপ্নের যাত্রা শেষ হয় শোকের মিছিলে। আজ সকাল ৮ টায় যানাজা নামাজ শেষে লাশ দাফন করা হয পারিবারিক কবরে।
নিহত ওয়াসিমের মা রশিদা বেগম জানান, তাদের বাড়ির ৩ শতক জায়গা ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই। তার ছেলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ৩ লাখ এবং প্রতিবেশিদের কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। এর মধ্যে গত ৩ বছরে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে ব্যাংকের ৩ লাখ টাকা।
মৃত্যু ওয়াসিমের খালা শ্যামলী বেগম বললেন, একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। এখন ব্যাংকের ঋণের বোঝা ও সংসারের দায়ভার সামলানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবুঝ সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।





