পাথরঘাটা
চালক নেই, মিলছে না অ্যাম্বুলেন্স সেবা

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স- আগামীর সময়
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত বন্ধ। হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চালক না থাকায় সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, আঙিনায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তিনটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। রোদ-বৃষ্টি ও অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ।
সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। একই সঙ্গে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর রোগী এলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এটি বড় দুর্ভোগ।
পাথরঘাটা-বরিশাল রুটের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক মাসুম বিল্লাহ জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় বর্তমানে বরিশাল পর্যন্ত ভাড়া সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক সময় পাঁচ হাজার টাকাও দিতে হয়।
রোগী হোসনেয়ারা বেগমের স্বজন সুমন মোল্লা জানিয়েছেন, হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অধিকাংশ সময় সেটি পাওয়া যায় না। জরুরি অবস্থায় রোগীকে বরিশালে নিতে বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হয়। টাকা না থাকলে রোগী নিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ মন্তব্য করেন, বছরের পর বছর সরকারি সম্পদ অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকলেও যথাযথ তদারকির অভাব স্পষ্ট। তার ভাষ্য, দ্রুত অচল অ্যাম্বুলেন্স মেরামত, চালক নিয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না করলে এ অঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানিয়েছেন, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক অবসরে যাওয়ায় বর্তমানে চালক সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগ বরিশাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন চালক নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তিনটি অ্যাম্বুলেন্স সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো নিলামের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।






