পর্যটকদের ভ্রমণ
জাহাজে ‘আটকা’ সেন্টমার্টিন
- জাহাজ চলাচলের অনুমতি না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা
- ৩-৫ দিনের সময়ের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ওইদিন থেকে যাওয়া হচ্ছে পর্যটকদের। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় হচ্ছে এ বিলম্ব। জাহাজ মালিকরা বলছেন, অনুমোদন ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। তবে ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপ ভ্রমণে আগ্রহীদের নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়। তাতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজ মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন বলে জানানো হয়।
পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত হচ্ছে— এমন ঘোষণায় দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটকবাহী জাহাজের অনুমোদন না পাওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এরই মধ্যে তিনটি জাহাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
তিনি বলেছেন, এ বছর থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩-৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ কারণে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেন্টমার্টিনে পর্যটন পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দ্বীপ ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সেজন্য ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
তিনি আরও বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত অংশীজনদের সচেতন করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার ভিত্তিতেই জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।



