গাজীপুর
দুই ছাত্রকে খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন, ৩ মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

সংগৃহীত ছবি
গাজীপুরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের পর উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আসামিদের গাজীপুর মেট্টোপলিটন আদালতে তোলার জন্য আনা হয়। এদিন আইনজীবীর মৃত্যুতে (ডেথ রেফারেঞ্জ) আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।
বিষয়টি জানান গাজীপুর মেট্টোপলিটন আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ্ চৌধুরী।
মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার বিকেলে পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরি এলাকায় আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থীর পোষাক খুলে যাওয়া নিয়ে বায়েজীদ ও বোরহানকে মারধর করা হয়। পরে বায়েজীদকে বিবস্ত্র করে মারধরের পর লোহার উত্তপ্ত খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। আর রোহানকে একটি কক্ষে আটকে মুখে স্কসটেপ পেঁচিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহতবস্থায় তাদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত শনিবার মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেনকে প্রধান আসামি করে ও মাদ্রাসার দুই শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে আসামিকে থানায় মামলা করেন।
এদিকে ছাত্র নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা শুক্রবার রাতেই উত্তেজিত হয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেনকে আটকে পুলিশে দেয়। শনিবার মাওলানা শোয়াইবকে আদালতে তোলা হয়। পরে আদালতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা রইছ উদ্দিনের ছেলে মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার বরমা গ্রামের ওয়াদুদের ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাবিবুর রহমান (২৬) ও শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার ভাইডাঙ্গা গ্রামের শাহিন (১৯)।
মাওলানা শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর মাদ্রাসার পরিচালক, হাবিবুর রহমান ও শাহিন মাদ্রাসার শিক্ষক।



