পাংশা
রসমালাইয়ে অচেতন, পকেট থেকে চাবি নিয়ে জুয়েলারিতে চুরি

ছবি: আগামীর সময়
রসমালাই খাওয়ানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বোনের বাড়িতে। সেখানে সুযোগ বুঝে খাবারের সঙ্গে মেশানো হয় চেতনানাশক। অচেতন হওয়ার পর পকেট থেকে নেওয়া হয় জুয়েলারি দোকানের চাবি। এরপর দোকানের আরেক কর্মচারীকে কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে আলমারি খুলে লুট করা হয় স্বর্ণালঙ্কার, রৌপ্যালঙ্কার ও নগদ টাকা। চুরি করা মালামাল নিয়ে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর থেকে ওই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজবাড়ীর পাংশায় একটি জুয়েলারি দোকানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, রৌপ্যালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরি হওয়া ১৫ ভরি ০১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
পুলিশ সুপার জানান, পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত নিউ মুসলিম জুয়েলার্স থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে বিশেষ কায়দায় স্বর্ণালঙ্কার, রৌপ্যালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল ২০টি স্বর্ণের আংটি, ১৬ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ২০ জোড়া স্বর্ণের পাশা দুল, চারটি স্বর্ণের গলার হার ও ১০টি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০০ ভরি রুপার গহনার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা ছিল।
পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে নেমে তারা জানতে পারে, দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন কৌশলে চুরির পরিকল্পনা করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে তিনি একজনকে জলিলপাড়ায় তার বোনের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে নেন লিটন।
এরপর দোকানে ফিরে আরেক কর্মচারী দীপকে কৌশলে খাবার খেতে পাঠিয়ে দেন তিনি। এ সুযোগে আলমারি খুলে স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। পরে চাবিটি আবার পকেটে রেখে দীপকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে চুরির রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর হয় পাংশা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পাংশা থানার একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, আসামির দেখানো মতে স্বর্ণালঙ্কার ছোট-বড় ৩০টি আংটি, ১১টি চেইন, একটি সীতাহার, তিনটি পল, একটি চান, ২৬ জোড়া ছোট-বড় কানের দুল ও একটি ব্রেসলেটসহ মোট ১৫ ভরি ০১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৫৮ জোড়া নুপুর, ৩৭টি চেইন, ছয়টি বাজু, চারটি ব্রেসলেট, ১৬ জোড়া হাতের চুড়ি, ৩২টি ছোট-বড় তাবিজ, ১৯ জোড়া কানের দুল ও ১৩টি চানসহ মোট ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। উদ্ধার করা এসব মালামাল বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং কোনো যোগসাজশকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মফিজুল ইসলাম, পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মঈনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





