সাজেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ঘোষণা

সাজেক
রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। সাজেক পর্যটন সড়ক সচল করা এবং পাহাড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১১, ১৫, ২২ ও ২৩ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর বিভিন্ন পর্যায়ে অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন সড়ক, স্থানীয় পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ‘আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলো অস্ত্রশক্তি ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অবরোধ পালনে বাধ্য করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।’
এতে আরও বলা হয়, ‘গত ১ নভেম্বর সাজেক সড়কে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির অবরোধ পালনের পর স্থানীয় জনগণের কথা বিবেচনা করে ২ নভেম্বর থেকে অবরোধ বন্ধ করার কথা ছিল সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের। কিন্তু তারা অবরোধ বন্ধ না করে সশস্ত্র দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।’
এ অবস্থায় সাজেক পর্যটন সড়ক অবিলম্বে সচল করা এবং পাহাড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক গণতান্ত্রিক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে অবরোধ চলাকালে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসাসামগ্রী, গণমাধ্যম এবং জরুরি খাদ্যদ্রব্য বহনকারী যানবাহন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।



