মুকসুদপুরে তিন মাস ধরে এসি ল্যান্ড নেই, আটকে আছে ১৫০০ নামজারি আবেদন

ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড পদটি শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন এসি ল্যান্ড মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি খালি পড়ে আছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে জমা পড়া অন্তত ১ হাজার ৫০০ নামজারি আবেদন বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় জমি ক্রয়-বিক্রয় ও মালিকানা হস্তান্তর করতে না পেরে শত শত ভুক্তভোগী আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। নামজারি ছাড়াও ভূমি-সংক্রান্ত বিবিধ মামলা ও মিসকেসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় প্রতিদিন সেবাগ্রহীতারা ভূমি অফিসে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
জিনাত হোসেন, সুজন শেখসহ একাধিক ভুক্তভোগী তাদের ভোগান্তি তুলে ধরে জানান, জমি কিনেও নামজারি করতে না পারায় তারা তা ব্যবহার করতে পারছেন না এবং বারবার অফিসে এসে কেবল আশ্বাস নিয়েই ফিরতে হচ্ছে।
পদটি শূন্য থাকার সুযোগে উপজেলায় মাটি ও বালুখেকো চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হলেও আইনগত পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির জানান, নামজারি কার্যক্রম বন্ধ নেই এবং তিনি নিজেই তা সচল রাখার চেষ্টা করছেন। তবে বর্তমানে পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় কাজের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
তার দাবি, জ্বালানি তেলের বাজার মনিটরিং এবং অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবুও জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজ উদ্যোগে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমি অফিসের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসি ল্যান্ড না থাকায় আবেদনের জট তৈরি হওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই শূন্যপদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়ে মন্তব্য করেছে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।




