দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী, ‘অপহরণকারীদের’ গ্রেপ্তারের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে কাঁদছেন মেয়ের মা-বাবা
ময়মনসিংহে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মারুফা আক্তার তুষিকে ‘অপহরণের’ দুই মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
মেয়েকে ফিরে পেতে অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার মা-বাবা।
আজ রবিবার দুপুরে ভালুকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তুষির মা লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, তার মেয়ে ভালুকার নারাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে মেনজেনা গ্রামের কাজল ফকিরের ছেলে রনি মিয়া তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি রনির বাবাকে একাধিকবার জানানো হলেও তার পরিবার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তুষির মায়ের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে রনি তার সহযোগীদের নিয়ে তুষিকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর তুষির বাবা ফিরোজ আহম্মেদ বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তুষির মা আরও অভিযোগ করেন, রনির বাবা আবদুল আলীম কাজল উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে তাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় ভালুকা থানা বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়কও জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভয়ে ওই নেতার নাম প্রকাশ করেননি।
তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিকভাবে সালিশের মাধ্যমে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজলের কাছে অনুনয়-বিনয় করেও কোনো লাভ হয়নি। মেয়েটি বেঁচে আছে কি না— তা-ও তারা জানেন না। দ্রুত মেয়েকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অপহরণের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনোতোষ বিশ্বাস জানান, ওই মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তাকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। এ মামলায় দুজন কারাগারে রয়েছেন। অন্য একজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।



