কম্পিউটার কিনে না দেওয়ায় দুই সপ্তাহ দলিল সম্পাদন বন্ধের অভিযোগ সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে

তিতাস উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. শরীফুল ইসলাম।
কুমিল্লার তিতাসে চাহিদামতো কম্পিউটার কিনে না দেওয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে দলিল সম্পাদন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দাবি, নিয়মিত অফিস না করা এবং দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সাবরেজিস্ট্রার।
গত ২৮ অক্টোবর তিতাস উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব অভিযোগ তোলেন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া। সভায় তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়, সাবরেজিস্ট্রারকে কম্পিউটার কিনে না দেওয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে দলিল নিবন্ধন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, যেদিন অফিস করেন, সেদিনও দুপুর ১২টার আগে এজলাসে ওঠেন না।
দলিল লেখকদের প্রতিবাদ করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মেহেদী হাসান সেলিম বলেন, সাবরেজিস্ট্রার যে কোম্পানির কম্পিউটার চেয়েছেন, সেটির দাম কমপক্ষে দুই লাখ টাকা। এত টাকা দিয়ে কম্পিউটার কিনে দেওয়া সম্ভব নয়। ছোট একটি ভুলের জন্য এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সভায় উপস্থিত কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেহেদী হাসান সেলিম বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগেই সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন। সাবরেজিস্ট্রারের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে ব্যক্তিগতভাবেও লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া সাবরেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামকে ডেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন। পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাঁকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও নির্দেশনা দেন।





