জামালপুর
সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিএনপি নেতা

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিধিবহির্ভূত নিয়োগ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা।
নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নূরে আলম মনি। তিনি ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। গত ১৮ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলমের সই করা নিয়োগাদেশে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মনির দলীয় পথে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরল ইসলাম নবাব। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগের বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার কথা জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপকের। এ পদে কেউ না থাকায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম জ্যেষ্ঠ প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান আছে। সেটিও মানা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষকদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে এবং ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাষক নূরে আলম মনি।
অনুসন্ধান জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলীর সই করা নন-ক্যাডার শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পারিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণীয় তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকায় কলেজের ২৪ জন প্রভাষকের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ১৩ নম্বর ক্রমিকে ছিলেন নূরে আলম মনি।
গত ২৬ এপ্রিল কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী অন্যত্র বদলি হন। জ্যেষ্ঠ প্রভাষক রুকন উদ্দিনের কাছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন তিনি।
একই দিন প্রভাব খাটিয়ে প্রভাষক রুকন উদ্দিনকে দিয়ে প্রথম পাঁচ জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের নামের মধ্যে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান মনি। এতে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের তালিকায় থাকা মাহমুদা সুলতানাকে চতুর্থ নম্বরে, তৃতীয় জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. মোরাদুজ্জামানকে দ্বিতীয় নম্বরে এবং ষষ্ঠ জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মিনাক্ষী প্রসাদ সাহাকে তৃতীয় নম্বরে রাখা হয়। এরপর মাউশি বরাবর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য যায় আবেদন।
বিষয়টি মাউশির বেসরকারি কলেজ-৬ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সচিব কাজী নূরুল ইসলামের নজরে আসে। গত ১২ মে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেন তিনি। তাতে প্রভাষক মনির জ্যেষ্ঠতার সঠিক ক্রম নির্ধারণ করে সুস্পষ্ট মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়।
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে ইসলামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর আরেক চিঠি পাঠান মাউশির কলেজ-১ শাখার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিউল বশর। তিন কার্যদিবসের মধ্যে মনির জ্যেষ্ঠতার ক্রমিকের অমিলের কারণ ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে কলেজের প্রভাষক শেখ রুহুল আমীন জীবনের কথা, ‘জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কীভাবে নূরে আলম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ নিয়েছেন, সেটা বলতে পারছি না। তবে আমি কোনো অনাপত্তিপত্রে সই দিইনি।’
প্রভাষক মোহাম্মদ আহসান হাবিব রাজার দাবি, তার কাছে অনাপত্তিপত্রে সই চাওয়া হয়নি।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সামনাসামনি কথা বলবেন জানিয়ে ফোন রেখে দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরে আলম মনির।
ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরল ইসলাম নবাব বলেছেন, ‘একজন সরকারি চাকরিজীবীর কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকার সুযোগ নেই।’
সদ্যবিদায়ী অধ্যাপক আহাম্মদ আলীর ভাষ্য, ‘নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ১ নম্বরে থাকা প্রভাষক রুকন উদ্দিনের কাছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি আমি। এখন শুনছি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে।’
প্রভাষক রুকন উদ্দিন জানালেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হয়েছিল। পরে ঠিক করা হয়েছে। শোকজের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখনও কোনো নোটিশ পাইনি।‘




