গাইবান্ধায় পানির নিচে আমনের বীজতলা, উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

গাইবান্ধায় টানা বৃষ্টিতে ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। ছবি: আগামীর সময়
কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার আমন উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতটি উপজেলার ৮১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা জেলা।সবগুলো উপজেলাই নদীবেষ্টিত। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় প্রায় ১৬৫টি চরাঞ্চল রয়েছে, যেগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়।
চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য সাত হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে, যার মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর বীজতলা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সাধারণত বীজতলা তৈরি করা হয়। এসব বীজতলার চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত জমিতে রোপণ করা হয়। এবারও তারা যথাসময়ে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে, ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা এখন পানির নিচে।
সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হোসেন আলী জানান, একনাগাড়ে বৃষ্টির কারণে তার আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে তা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের চাপাদহ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ বছর প্রায় আট বিঘা জমিতে আমন চাষের পরিকল্পনা ছিল। এজন্য প্রায় ২৫ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলাম। যেখানে ২০-২২ দিন বয়সী চারা ছিল। জমিতে সার প্রয়োগের পরের দিন থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। এক সপ্তাহ ধরে চারাগুলো পানির নিচে থাকায় চারার মাথায় পচন ধরেছে।’
প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগানোর জন্য ১২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছিলেন একই গ্রামের ঝরু মিয়া। তার সব চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি নতুন করে বীজতলা তৈরি বা চারা কিনে ধান রোপণের কথা ভাবছেন, যাতে খরচ আরও বাড়বে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরের কৃষক মোয়াজ্জেম মিয়া বললেন, ‘টানা বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বেশি দামে বীজ কিনতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবে।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলামের ভাষ্য, বীজতলা থেকে পানি নেমে গেলে ও পরিচর্যা করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন।





