লাকসামে কর্ণফুলী ট্রেন লাইনচ্যুত: পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

লাইনচ্যুত কর্ণফুলী ট্রেন
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে কুমিল্লার লাকসামে। এতে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কেউ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতে পরিচালিত কর্ণফুলী কমিউটার (৩ আপ) ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। পরে নাওটি স্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে পৌঁছানোর আগেই বিকট শব্দে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ইঞ্জিনসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত ও কাত হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে নাওটি রেলওয়ে স্টেশনটি বন্ধ থাকায় সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। এ স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতিও ছিল না। ফলে ট্রেনটি স্টেশন পার হয়ে ডাউন লাইনের আউটার সিগন্যালের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আপ লাইনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আউটার সিগন্যালের কাছে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ কয়েকটি বগির চাকা লাইনচ্যুত হয়ে বগিগুলো কাত হয়ে যায়। আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে লাকসাম ও স্থানীয় সুখতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠান।
তাদের ভাষ্য, কয়েক শ যাত্রী বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে এ ঘটনায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্টনায় রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে একটি রিলিফ ট্রেন ও ক্রেন পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ জানান, লাকসাম-নাঙ্গলকোট সেকশনের ১২২/৭-৮ কিলোমিটার এলাকায় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ট্রেনটির ২৭০৮ নম্বর ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এ ছাড়া ১৭২৭ নম্বর বগির চারটি চাকা এবং ১৮৯০ নম্বর বগির সব চাকা লাইনচ্যুত হয়ে বগি দুটি কাত হয়ে যায়। অন্যদিকে ১৮৭০ ও ২১৯৩ নম্বর বগি দুটি পুরোপুরি কাত হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ফারহান মাহমুদকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন-১) আবু ইমতিয়াজ রাফি, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই-ক্যারেজ) আবদুল্লাহ আল মাসুদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই-লোকো) রেজওয়ানুল ইসলাম এবং বিভাগীয় সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (ডিএসটিই) আশিকুর রহমান।
ফারহান মাহমুদ আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণে ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। আপ লাইনে মেরামতের কাজ চলছে এবং ডাউন লাইন চলাচলের উপযোগী রয়েছে। এ কারণে আপ লাইন মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ট্রেন ডাউন লাইন দিয়ে চলাচল করবে। মেরামত সম্পন্ন হলে উভয় লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।



