আশুলিয়ায় স্বাভাবিক হচ্ছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ, কমেছে পাম্পের ভিড়

ছবি: আগামীর সময়
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের তীব্র সংকট ও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কাটিয়ে এখন স্বস্তিতে তেল নিতে পারছেন যানবাহন চালকরা। সরবরাহ বাড়ায় পাম্পগুলোতে তেল বিক্রিতে আগের মতো কোনো সীমাবদ্ধতাও নেই। গ্রাহকরা এখন প্রয়োজন অনুযায়ী ট্যাংক ভর্তি করে জ্বালানি নিতে পারছেন।
সরেজমিন আশুলিয়ার ‘মুক্তা সিএনজি ও ফিলিং স্টেশন’সহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো আর দীর্ঘ যানজট বা ভিড় নেই। দু-একটি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি সরাসরি এসে কোনো অপেক্ষা ছাড়াই তেল সংগ্রহ করছে। অথচ কয়েক দিন আগেও মোটরসাইকেলে ৫০০ এবং প্রাইভেট কারে এক হাজার টাকার বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছিল না।
মোটরসাইকেল চালক রাজিব আহমেদ জানান, কয়েক দিন আগেও এক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এখন কোনো ভিড় নেই, এমনকি তিনি বাইকের ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিতে পেরেছেন।
পণ্যবাহী ট্রাকচালক রফিক মিয়া উল্লেখ করেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সময় অপচয় কমছে। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হচ্ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ রয়েছে। ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ আসায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কবিরপুর এলাকার এক পাম্পকর্মী মিঠু মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পর থেকেই সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও আগের তুলনায় পাম্পে গ্রাহকের উপস্থিতি কমেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাম্প পরিচালক দাবি করেন, সংকটের সময় দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে বোতলে ভরে তেল মজুদ করেছিলেন। এখন দাম বাড়ার পর সেই মজুদ করা তেল ব্যবহার করায় মোটরসাইকেলের চাপ কম দেখা যাচ্ছে।
আশুলিয়ায় ছোট-বড় অন্তত ১০টি পেট্রল পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পের ওপর যানবাহনের পাশাপাশি কৃষিকাজের সেচ ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার জেনারেটর ব্যবস্থাও নির্ভরশীল। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এসব খাতেও স্থবিরতা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




