অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ৩ জনকে পিটিয়ে আহত

গাইবান্ধার সাঘাটায় পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দুজন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
গত ৪ নভেম্বর রাত আটটার দিকে উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর (ভুতমারা বটেরতল মাঝিপাড়া) গ্রামের ঘটনা এটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিপন চন্দ্র দাস ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে শনিবার সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন- রিপন চন্দ্র দাস (৩০), তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রনিতা রানী এবং ভাতিজা বিজয় চন্দ্র দাস।
রিপন চন্দ্র দাসের লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টাকা-পয়সার লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ঘটনার দিন নীলাতন চন্দ্র দাস, মিঠু চন্দ্র দাস, জোসনা রানী, পলি রানীসহ ১০ থেকে ১২ জন তার বসতবাড়ির উঠানে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা গালিগালাজ শুরু করেন। রিপন চন্দ্র দাস এর প্রতিবাদ করলে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় রিপন চন্দ্র দাসের মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রনিতা রানী ও ভাতিজা বিজয় চন্দ্র দাসকেও মারধর করা হয়। এতে রনিতা রানীর বাঁ হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। এ সময় রনিতা রানীর গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন এবং বসতঘরের স্টিলের বাক্সে রাখা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত তিনজনকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে রিপন চন্দ্র দাস ও তার স্ত্রী বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ইলতুতমিশ আকন্দ পিন্টু জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হবে।
সাঘাটা থানার ওসি দুরুল হোদা জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত শেষে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।




