চিকিৎসকের স্বাক্ষর করেন ল্যাব ইনচার্জ, পরিচালক বললেন ‘সব ঠিক আছে’

ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টার
মানিকগঞ্জে ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রিপোর্টে ব্যবহার করা হতো চিকিৎসক মো. রিজুয়ান বিশ্বাসের স্বাক্ষর। রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসক রিজুয়ান বিশ্বাসের সম্মতিতেই তার স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি হরিরামপুরের ঝিটকা বাজারে ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটেছে এ ঘটনা।
গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে ল্যাব ইনচার্জ মো. ইমদাদুল হকের পাশাপাশি চিকিৎসক মো. রিজুয়ান বিশ্বাসের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসক রিজুয়ান বিশ্বাস ঝিটকা বাজারের গিয়াস উদ্দিন মার্কেটের ডক্টরস ফার্মেসিতে চেম্বার করেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানেই রোগী দেখেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, তার অনুপস্থিতিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব ইনচার্জ মো. ইমদাদুল হক নিজেই রিপোর্টে চিকিৎসক রিজুয়ানের স্বাক্ষর করে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত একজন জানান, রিজুয়ান স্যার এখানে তেমন একটা আসেন না। তার স্বাক্ষর ল্যাব ইনচার্জ ইমদাদুল দিয়ে দেন। এটা রিজুয়ান স্যারের পারমিশনেই হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে রিজুয়ান স্যারকে একটা অ্যামাউন্ট দেওয়া হয় আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে।
জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম এখানে। রক্তের টেস্ট করিয়েছি। আমরা সাধারণ মানুষ, এগুলো বুঝি না। তবে স্বাক্ষর জাল করে যদি রিপোর্ট দেওয়া হয় বা কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, সেটা দেখার দায়িত্ব তো প্রশাসনের।’
ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে তার স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব ইনচার্জ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘উনি (ডা. মো. রিজুয়ান বিশ্বাস) তো এখানে আসে। মাঝে মাঝে আসে।’ তবে স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আক্তারুজ্জামানের (বাবুল) মোবাইলে বললেন, ‘স্বাক্ষর ডা. রিজুয়ানই দেন। আমার এখানে ৩-৪ জন মেয়ে আছে। তারা রিপোর্ট নিয়ে গিয়ে ডা. রিজুয়ানের কাছে থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে আসেন। ডা. রিজুয়ানও মাঝে মাঝে আমাদের এখানেও আসেন। আমাদের কাগজপত্র সব ঠিক আছে। চারদিকে কত অনিয়ম হচ্ছে, তা আপনারা দেখছেন না।’
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক মো. রিজুয়ান বিশ্বাস বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে ওখানে যাই। ওদের ওখান থেকে মাঝে মাঝে স্বাক্ষর নিতে আমার কাছে আসে। তবে, আমার স্বাক্ষর তো ওরা জাল করে দিতে পারে না। এটা তো অন্যায়। আমি বিষয়টি নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলব।’
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এ কে এম রাসেল জানান, মেডিকেল রিপোর্টে স্বাক্ষর করার সময় চিকিৎসককে অবশ্যই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক আগে থেকে কাগজে স্বাক্ষর করে আসলেন, সেগুলোতে পরে রিপোর্ট প্রিন্ট করা হলো অথবা তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে বা অন্য কেউ দিয়ে দিলে এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা খুব দ্রুতই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করব।’
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস বললেন, ‘মেডিকেল রিপোর্টে স্বাক্ষর জাল করা অবশ্যই অপরাধ। আমরা খুব দ্রুতই হরিরামপুর উপজেলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করব।’



