ভালুকা
ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মহাসড়কে অস্ত্রের মহড়া

প্রতিপক্ষকে ভীতি দেখাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া হয়, ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ভীতি দেখাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়েকশ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানা এলাকায় মিছিল ও মহড়া দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসকিউ কারখানার ঝুট সংগ্রহ ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। তারা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। এর আগেও একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
হবিরবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাসান বললেন, আওয়ামী লীগের কিছু লোক ও মামলার আসামিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রতিহত করতেই মিছিল বের করা হয়।
অন্যদিকে এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার কার্যাদেশ দাবিদার উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম জানিয়েছেন, ২২ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। নির্বাচনের পর স্থানীয় এমপি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানালেন, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে পারেননি তিনি।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেনের মতে, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে মালামাল বের না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদপন্থী লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে। কারখানার ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন।
দেশীয় অস্ত্রের বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বললেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।




